মন থেকে কাঁথা ফোঁড়ে লতাপাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন রঙিন ফুল। তাঁর নাম মমতাজ, দক্ষ সূচিশিল্পী। সুই-সুতায় নকশা বোনার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি। তাঁর পাশেই অন্য প্রতিযোগীরা যশোর স্টিচ, নকশি, রিফুগরি, কলাবাতনসহ হরেক রকম ফোঁড়ে সুই-সুতা দিয়ে কাপড়ে ফুটিয়ে তুলছেন তাঁদের শিল্পীসত্তাকে। কপোতাক্ষ জাপানের সহযোগিতায় এই সূচিশিল্প প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চারুপীঠ ও ফোঁড় নামের দুটি সংগঠন। যশোর শহরের চারুপীঠ প্রাঙ্গণে ১৪ মার্চ এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ২২ মার্চ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিজয়ী সেলাই দিদিমণিদের এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। এই দিদিমণিদের সেলাইকাজ দেখে জাপান থেকে আসা জাপানিজ কালচারাল একাডেমীর প্রিন্সিপাল ইয়ানো রিকো বললেন, 'বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সূচিশিল্পীরাই ধরে রেখেছেন। তাঁদের মনে রঙের শেষ নেই। সেলাইকর্মগুলোতে সেই স্বপ্নের রঙ ডানা মেলে। তাঁরা মন থেকে কাপড়ে যে ছবি ফুটিয়ে তোলেন তা-ই হচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্পকর্ম।'

এবার ১৪৫ জন সূচিশিল্পী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৩০ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এরপর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। তঁদের ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতায় নাসরিন সুলতানা প্রথম, মমতাজ হোসেন দ্বিতীয় ও রত্না বেগম তৃতীয় হয়েছেন। আয়োজক চারুপীঠের অধ্যক্ষ মাহবুব জামাল ও ফোঁড়ের নির্বাহী পরিচালক মামুনুর রশীদ জানান, 'যশোর অঞ্চলের সূচিশিল্প জগদ্বিখ্যাত। আমাদের দাদি-নানিরা সুই-সুতা দিয়ে মন থেকে হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, ফুল ফুটিয়ে যে নকশি কাঁথা তৈরি করেছেন, তা-ই আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে। আমরা সেই ইতিহাসকে ধরে রাখার জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।' প্রতিযোগী রত্না ও ফাতেমা বললেন, 'আমরা মা, চাচিদের কাছ থেকে সেলাই ফোঁড়াই শিখেছি। আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমরা উপকৃত হয়েছি।'